নেতাকর্মী ও পর্যবেক্ষণে, ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম নির্বাচনী মাঠে একা হয়ে পড়েছেন। তার অনুগামী নেতাকর্মীরা অনেকেই বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মান্নানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বাকি যারা তার সঙ্গে ছিলেন তারাও বহিষ্কৃত হয়েছেন। এমন অবস্থায় রেজাউল করিম কোন ধরনের প্রচার-প্রচারণাই চালাতে পারছেন না। সোনারগাঁ সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের কোথাও তাকে জোরালো উঠান বৈঠক করতে এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি।
স্থানীয় নেতা কর্মীরা বলছেন, নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে দিয়েছেন রেজাউল করিম। তিনি আর কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। কারন তার অন্যতম সহযোগী বহিষ্কারের ভয়ে সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম মুকুল অসুস্থতার ভান ধরে নিরব রয়েছেন। এদিকে তার অনুগামী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার আবু জাফর ও সোনারগাঁও পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রফিক বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। এছাড়াও প্রতীক বরাদ্দের পরপরই রেজাউল পন্থী আবুল কাশেম বাবু চেয়ারম্যান, এনামুল কবির রবিন, সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক নূরে ইয়াসিন নোবেল, আশরাফ মোল্লা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালাউদ্দিন সালু ও বিএনপি নেতা খোরশেদ আলম সহ অন্যান্য রেজাউল করিম অনুগামী সকলেই ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনেরও একই দশা। গিয়াসউদ্দিন অনুগামী সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, জিয়াউল ইসলাম চয়ন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। তবে তারা বহিষ্কৃত হলেও বহিষ্কৃত হওয়ার পরে প্রকাশ্যে গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে তারা নামেননি। বহিষ্কৃত হওয়ার পর গিয়াস উদ্দিনের বলয় ছেড়ে তারা এখন নীরবতা পালন করছেন। যদিও গিয়াস উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সহচর সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের শহিদুর রহমান স্বপন, বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ প্রধান, সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম নয়ন ছাড়া গিয়াসের সঙ্গে আর কেউ নাই।
সুতরাং বলা যায়, সোনারগাঁয়ে রেজাউল করিম ও গিয়াসের অবস্থান এখন শূন্যের কোঠায়। এছাড়াও রেজাউল করিমপন্থী ও গিয়াস উদ্দিন পন্থী যেসব বিএনপি নেতারা বহিষ্কৃত হয়েছেন তারা এখন বিএনপির ধানের শীষের পক্ষে আসার জন্য জোর তদবির চালাচ্ছেন। তারা বহিষ্কৃত হওয়ার রেজাউল বা গিয়াসের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন না। তারা চাচ্ছেন বিএনপিতে ফিরে আসতে। সুতরাং সোনারগাঁয়ে রেজাউল করিম ও গিয়াস উদ্দিনের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অবস্থান একেবারে শূন্যের কোঠায় পৌছে গেছে।
ওদিকে সিদ্ধিরগঞ্জে গিয়াস উদ্দিনের কিছু অনুগামী থাকলেও তারা ভেতরে ভেতরে ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। অনেকে আবার ধানের শীষের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করলেও গোপনে গিয়াস উদ্দিন এর সঙ্গে ভেতরে ভেতরে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। তবে তারা কার্যত কোন পক্ষে কাজ করবেন সেটা এখন দেখার বিষয়। এক্ষেত্রে সিদ্ধিরগঞ্জে রেজাউল করিমের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। সিদ্ধিরগঞ্জে রেজাউল করিমের অবস্থান নাই বললেই চলে। কিন্তু গিয়াস উদ্দিনের ইজ্জত রক্ষায় সিদ্ধিরগঞ্জের কিছু ভোট তার পক্ষে ভূমিকা রাখলেও রেজাউল করিমের অবস্থান সিদ্ধিরগঞ্জে নাই বললেই চলে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন