সোনারগাঁ থেকে চিকিৎসক হাবিল উদ্দীনের অপসারণ দাবি: অনিয়ম ও অপচিকিৎসায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার হোসেনপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) হাবিল উদ্দীনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বহীনতা, চরম অবহেলা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা ও অপচিকিৎসায় অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী এখন তার দ্রুত বদলি ও শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন।
জানা গেছে, হাবিল উদ্দীনের নিয়মিত দেরিতে অফিসে আসা এবং চিকিৎসাসেবা দিতে গড়িমসি করার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের ক্ষোভের কারণ ছিল। সম্প্রতি তার এই অনিয়ম চরম আকার ধারণ করলে বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের নজরে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন হাবিল উদ্দীন ও তার সহকারীর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শোকজেই শেষ নয়, হাবিল উদ্দীনের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ। গত ৮ এপ্রিল সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর কাছ থেকে জোরপূর্বক অবৈধভাবে টাকা দাবি করেন তিনি। ভুক্তভোগী রোগীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মহলের সাথে গভীর সম্পৃক্ততা এবং হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সে যাত্রায় পার পেয়ে যান তিনি। গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালেও, সাবেক সেই স্বৈরাচারী শক্তির প্রভাবেই তিনি এখনো বহাল তবিয়তে নিজের সিন্ডিকেট টিকিয়ে রেখেছেন।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেকমো হাবিল উদ্দিন এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি অবৈধ অর্থ উপার্জন, জাল সার্টিফিকেট বাণিজ্য এবং ল্যাব টেস্টের নামে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, তার ভুল ও ত্রুটিপূর্ণ অপচিকিৎসার শিকার হয়ে এযাবৎ বহু সাধারণ মানুষের মারাত্মক শারীরিক ক্ষতিসাধন হয়েছে বলেও ভুক্তভোগীরা জানান।
এদিকে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, লোকদেখানো শোকজ কিংবা নামমাত্র তদন্ত কমিটি গঠন করলেই হবে না। স্বৈরাচারের দোসর ও দুর্নীতিগ্রস্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে জনস্বার্থে তাকে সোনারগাঁও থেকে অনতিবিলম্বে বদলি করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের মদদে তৈরি এই অবৈধ চিকিৎসা সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং দুর্নীতিমুক্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাবিল উদ্দীনকে আর সোনারগাঁওয়ে দেখতে চান না ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন