[islamsr] / results=[3] / label=[latest] / type=[headermagazine]
শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

বিএনপিকে মামলা দিমু, আওয়ামী লীগকে কোলে নিয়ে নাচমু': বিতর্কিত সেই নেতা বহাল তবিয়তে, ক্ষুব্ধ তৃণমূল

প্রকাশঃ
0 জন এই প্রতিবেদনটি পড়েছেন

 


সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: ​'বিএনপিওয়ালাদের মামলা দিয়ে দৌড়াবো, আর আওয়ামী লীগওয়ালাদের কোলে নিয়ে নাচবো' বলা সোনারগাঁয়ের শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সেই সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দলের দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে মামলা দেওয়ার হুমকি এবং সরাসরি প্রতিপক্ষ দলের প্রতি নগ্ন আনুগত্য প্রকাশের এমন ভিডিও ভাইরাল হয় এবং তা নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত এই নেতার বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও অস্থিরতা।

​ভাইরাল হওয়া ওই অডিও-ভিডিও ক্লিপটিতে জাহাঙ্গীর আলমকে অত্যন্ত উত্তেজিত ভাষায় বলতে শোনা যায়, বিএনপিওয়ালারা আমার ক্ষতি করছে। নির্বাচনের পর ওদের মামলা দিয়ে দৌড়াবো। আর আওয়ামী লীগওয়ালাদের কোলে নিয়ে নাচবো, চিন্তা করবেন না। দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এমন সংগঠনবিরোধী বক্তব্যের পর থেকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা হতবাক এবং লজ্জিত। অথচ দায়িত্বশীল পদে থাকা এই নেতার বিরুদ্ধে জেলা বা উপজেলা বিএনপি এখনো কোনো শোকজ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

​এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রভাবশালী নেতা বলেন, ১৭ বছর রাজপথে রক্ত ঝরিয়ে যে দলটিকে আমরা বাঁচিয়ে রেখেছি, আজ ক্ষমতায় এসে সেই দলের ভেতরেই বসে কেউ যদি এমন মন্তব্য করে, তবে তা মেনে নেওয়া অসম্ভব। তিনি আসলে কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন? আওয়ামী লীগকে কোলে নিয়ে নাচার ইচ্ছা থাকলে তার বিএনপির কমিটিতে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। আমরা অনতিবিলম্বে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।

আরেকজন জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা আক্ষেপ করে বলেন, তৃণমূলের কর্মীরা আজ অপমানিত বোধ করছেন। অর্থের ও ক্ষমতার নেশায় যারা দলের আদর্শকে বিসর্জন দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কেন হাই কমান্ড এখনো নীরব। এটি আমাদের বড় প্রশ্ন।

​বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নেতৃত্বের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা এখনো 'ভিডিও দেখার' বা 'তদন্তের' কথা বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন।

সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। আমি এখনো ভিডিওটি দেখিনি। তবে ভিডিওর সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একই রকম মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। তিনি জানান, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এমন মন্তব্য কখনোই কাম্য নয় এবং সত্যতা নিশ্চিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​তবে সাধারণ কর্মীরা বলছেন, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবার চোখের সামনেই আছে। এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিন দিন সময় নেওয়াটা খুবই হতাশাজনক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কোনো মহলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণেই জাহাঙ্গীর আলম এখন পর্যন্ত বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বর্তমানে সোনারগাঁয়ের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে এই বিতর্কিত নেতাকে দ্রুত বহিষ্কারের দাবি উঠছে। তৃণমূলের হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাধারণ কর্মীরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। দল ও রাজনীতির স্বার্থে এবং জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে এখন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দিকেই তাকিয়ে আছেন সোনারগাঁয়ের মানুষ।


এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন