মোহাম্মদপুর থেকে প্রয়োজন ছাড়া এলাকায় আসে না মাসুম’: সমালোচনায় উত্তাল সাদিপুরের রাজনীতি
সোনারগাঁও কন্ঠ: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের রাজনীতির মাঠ এখন তীব্র তর্ক-বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তাল।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যকার বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে, এলাকায় অনুপস্থিতি এবং অপরের জনসেবামূলক কাজকে বিতর্কিত করার অভিযোগে চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূঁইয়া মাসুমকে নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে স্থানীয় রাজনীতিতে।
সম্প্রতি পঞ্চমীঘাট-কেউঢালা প্রধান সড়কের কাঁচহরদী অংশের প্রায় ১.৫ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে চরম বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী কাউসার আহমেদ নিজস্ব তহবিল থেকে আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করে রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন, যা স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রশংসিত হয়।
অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ মানুষের জন্য উল্লেখ করার মতো কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে না পারলেও কাউসারের এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূঁইয়া মাসুম।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে তিনি দাবি করেন, এই সংস্কার কাজ নাকি অমল পোদ্দারের অর্থায়নে হয়েছে। তবে এই ভিত্তিহীন দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি মাসুম; এমনকি বিষয়টি নিশ্চিত হতে একাধিক গণমাধ্যমকর্মী সরাসরি মুঠোফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রহমান সরকার বলেন,
চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম তো থাকেন ঢাকার মোহাম্মদপুরে! খুব বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সে এলাকাতেই আসে না। আমিও চেয়ারম্যান প্রার্থী এলাকার জন্য আমিও কাজ করে যাচ্ছি। অন্যরাও তেমনি করে যাচ্ছে। আমি কারো সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করতে চাই না৷ তবে সত্যি কি মানুষ না বলতে পারলেও জানে।
এদিকে এ বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার আহমেদ বলেন, মাসুম সাহেব দীর্ঘদিন ধরে এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন। তিনি মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা হয়ে হুট করে এসে চেয়ারম্যান হতে চান, অথচ সাদিপুরের মানুষের ভাঙা রাস্তাঘাট কিংবা দুর্ভোগ নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। আমি যখন নিজের ঘাম ও অর্থ ঝরিয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুব্যবস্থা করলাম, তখন তিনি ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে মিথ্যাচার শুরু করেছেন। জনগণ কাজ দেখে, অপপ্রচার দেখে না। মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে সাদিপুরের সচেতন জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। রাজনীতি যদি করতেই হয়, তবে মোহাম্মদপুরে বসে না থেকে এলাকায় এসে জনগণের সেবা করে দেখান।
স্থানীয়দের মতে, রাজপথের বাস্তব সেবামূলক কর্মকাণ্ড বনাম ঢাকা কেন্দ্রিক ‘বসন্তের কোকিল’ রাজনীতির এই টানাপোড়েনে কামরুজ্জামান ভূঁইয়া মাসুম এখন সাদিপুরে তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এলাকায় অবস্থান না করে হঠাৎ নির্বাচনের মুখে মিথ্যাচারের রাজনীতি সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন