রিপোর্ট প্রিন্ট

শেয়ার করুনঃ



সোনারগাঁয়ে হত্যা মামলার আসামীরা জামিনে বের হয়ে বাদী পরিবারে হামলার অভিযোগ

 


সোনারগাঁ(নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের  মহজমপুর উত্তর কাজীপাড়া এলাকায় আলোচিত শাওন হত্যা মামলার আসামীরা জামিনে বের হয়ে মামলা তুলে নিতে বাদী পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে মহজমপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যা মামলার বাদীর বাবা আলী আজগরকে বাজার থেকে তুলে নিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় আহত আলী আজগর বাদী হয়ে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় দেড় বছর আগে তার ছেলে শাওনকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। ওই ঘটনায় নিহত শাওনের ভাই মোতালেব বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলার আসামীরা জামিনে বের হয়ে আসার পর থেকে নিয়মিতভাবে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী মোতালেব ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাদী মোতালেব দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।

রোববার বিকেলে আলী আজগর একা পেয়ে বিবাদী লতিফ, কামরুজ্জামান ওরফে কামু, জাবেদ, বাদশা, বাবুল, ফারুক, সুরুজ মিয়া, জাকির, জাহিদ, হোসেন, মারুফ, মিন্নত আলী ও হামিদুলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪–৫ জন দেশীয় অস্ত্র দা, চাপাতি, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মহজমপুর বাজারের শাহী মসজিদের সামনে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে দাবি করা হয়, হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আলী আজগরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফোলা জখম করে। এসময় লোহার রড দিয়ে মাথা, দুই পায়ের হাঁটু ও দুই হাতের কবজিতে আঘাত করা হয়। পরে তার ছেলে মোতালেবকে তাদের কাছে তুলে দিতে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে আলী আজগরকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিববুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে তালতলা ফাঁড়ির ইনচার্জকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাদী পরিবার দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি


0/আপনার মতামত জানান