মামুন মাহমুদের কর্মী সন্ত্রাসী বিপ্লব বিপুল অস্ত্রসহ র্যাবের হাতে আটক, কাঁচপুর বালুর ঘাট দখল নিয়ে উত্তেজনা
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর বালুর ঘাট দখলকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অধ্যাপক মামুন মাহমুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বিপ্লবকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কাঁচপুর এলাকায় অস্ত্রসহ মহড়া দেওয়ার সময় বিপ্লবকে আটক করা হয়। আটককৃত বিপ্লবকে স্থানীয়ভাবে মামুন মাহমুদের স্বক্রীয় কর্মী হিসেবে পরিচিত বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তার কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঁচপুর বালুর ঘাট দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ব্যক্তি পলিনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই ঘাটকে কেন্দ্র করে কয়েকশ কোটি টাকার অবৈধ বালু ব্যবসা ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিল একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। পলিন নিজেও একাধিক ছাত্র হত্যা মামলার আসামি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক মামলার পলাতক আসামি বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করে দেশীয় রাজনীতি ও এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ওই পলাতক আসামি পলিনের সঙ্গে সমঝোতা করে কাঁচপুর বালুর ঘাট দখলের পরিকল্পনা করেন। এজন্য সাত খুন মামলার আসামি নূর হোসেনের ছোট ভাই নূরুদ্দিনের ভাতিজা বাদলের সন্ত্রাসী বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করে এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দেওয়া হচ্ছিল।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২১ সালে কাঁচপুর বালুর ঘাটের সরকারি ইজারা শেষ হলেও পরবর্তীতে আদালতে একটি কথিত ভুয়া মামলা দায়ের করে এবং কিছু অসাধু বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তার যোগসাজশে ইজারা কার্যক্রম বন্ধ রেখে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। এই সুযোগে বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্র ঘাটটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, একটি শিক্ষিত পরিচয়ের আড়ালে থেকে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ যদি সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ঘাট দখল ও অবৈধ বাণিজ্যে জড়িত থাকেন, তবে তা সমাজ ও রাজনীতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক।
তবে এ বিষয়ে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ মুঠোফোনে বলেন, র্যাবের অভিযানে কে বা কারা গ্রেপ্তার হয়েছে তা আমার জানা নেই। বিপ্লব নামের কেউরে আমি চিনি না বা আমার সাথে পরিচয় নেই। উদ্দেশ্যপ্রণীত ভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
