সোনারগাঁয়ে নগদ অফিসে ডাকাতি নাকি সাজানো নাটক?
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া এলাকায় অবস্থিত মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদ-এর ডিস্ট্রিবিউশন হাউস টি-এন্টারপ্রাইজ-এ কোটি টাকার ই-মানি ও নগদ অর্থ লুটের ঘটনাটি সাজানো নাটক ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের মালিক আল-আমিন এক কর্মীর বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ তুললেও, প্রতিষ্ঠানেরই এক শীর্ষ কর্মকর্তা এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো বলে দাবি করেছেন।
শনিবার (২ মে) সকাল ৯টার দিকে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার জালাল টাওয়ারের চতুর্থ তলায় অবস্থিত টি-এন্টারপ্রাইজের অফিসে এই ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানের মালিক আল-আমিনের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক ডিএসও রবিউল আউয়াল পিন্টুর নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি সশস্ত্র দল অফিসে প্রবেশ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে। তাদের কাছে শটগান, পিস্তল ও রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা ক্যাশ থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা, ৫টি স্মার্টফোন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ডিবিআর (রেকর্ডার) লুট করে। এছাড়া লুণ্ঠিত মোবাইলগুলোতে প্রায় ১ কোটি টাকার ই-মানি ব্যালেন্স ছিল বলেও মালিকপক্ষ দাবি করে।
তবে প্রতিষ্ঠানেরই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা এক ভিডিও বার্তায় মালিকপক্ষের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন। ওই কর্মকর্তার দাবি, সাবেক কর্মী রবিউল আউয়াল পিন্টু কোনো অপরাধী নন, বরং তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার।
ভিডিও বার্তায় ওই কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রতিষ্ঠানের ভল্ট ছাড়া বাইরে কোনো টাকা থাকে না এবং ঘটনার সময় সেই ভল্ট খোলাও হয়নি। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজে কোনো প্রকার অস্ত্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি এবং পিন্টুরও কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি। ফলে পিন্টুর বিরুদ্ধে কোটি টাকার ই-মানি ও নগদ অর্থ চুরির যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা বাস্তবতার সাথে মেলে না।
তিনি আরও জানান, পিন্টু তার অধীনেই অত্যন্ত সুনামের সাথে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু ছাত্রদল বা যুবদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা থাকার অজুহাতে প্রায় এক বছর আগে তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে মুহূর্তের মধ্যে চাকরিচ্যুত করা হয়। মূলত একটি রাজনৈতিক মিছিলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ম্যানেজারের সাথে পিন্টুর বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এর জের ধরেই বর্তমান এমডি আল-আমিনের নির্দেশে তাকে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চাকরিচ্যুতির সেই ক্ষোভ থেকে পিন্টু হয়তো কিছুটা জেদ প্রকাশ করে থাকতে পারেন, কিন্তু তার সাথে ডাকাতি বা হামলার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি পিন্টুকে ফাঁসানোর একটি অপচেষ্টা মাত্র।
ভিডিও বার্তায় ওই কর্মকর্তা টি-এন্টারপ্রাইজের বর্তমান মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গত ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রহস্যজনক রদবদল ঘটে। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও আওয়ামী লীগ নেতা আসিফ আহমেদ মানুর কমার্শিয়াল ম্যানেজার ছিলেন বর্তমান এমডি আল-আমিন। কিন্তু পটপরিবর্তনের পর তিনি কীভাবে এই প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিলেন এবং এমডি পদ দখল করে প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করলেন, তা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ধোঁয়াশা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহিববুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষেই ঘটনার আসল সত্য উদঘাটিত হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন