[islamsr] / results=[3] / label=[latest] / type=[headermagazine]
শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

সোনারগাঁয়ে স্কুলছাত্রীকে উড়ন্ত লাথি: ভিডিও ভাইরাল, বখাটে কিশোর আটক,

প্রকাশঃ
0 জন এই প্রতিবেদনটি পড়েছেন

 


সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও উড়ন্ত লাথি মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার(৮জুলাই) অভিযুক্ত বখাটে কিশোরকে রংপুর থেকে পরিবারের সহযোগিতায় আটক করেছে পুলিশ। এদিকে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী এক ছাত্রীকে স্কুল কর্তৃপক্ষ টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

​জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী তানিসা আক্তার ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মিম আক্তার কাঁচপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে সংলগ্ন এলাকায় হাঁটতে যায়। এ সময় বখাটে কিশোর দিলশাদ হোসেন পেছন থেকে তানিসাকে প্রথমে একটি লাথি মারে। শিশুটি প্রতিবাদ করলে তাকে পেছন থেকে আবারও একটি উড়ন্ত লাথি মারে ওই বখাটে। এ পুরো দৃশ্যটি বখাটের কোনো এক সহযোগী মুঠোফোনে ধারণ করে। গত বৃহস্পতিবার ভিডিওটি ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং সর্বত্র তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃ

​ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সির নির্দেশে নড়েচড়ে বসে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত শনিবার সকালে রংপুর থেকে বাবা-মায়ের সহযোগিতায় অভিযুক্ত দিলশাদ হোসেনকে আটক করা হয়। দিলশাদ কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকার লিটন খানের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার বাবা সাফিউল ইসলাম রিকশাচালক এবং মা মোছাম্মদ দুলালী গার্মেন্টসকর্মী।

​এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সমাজসেবা বিভাগের প্রবেশন অফিসার নূর ফারজানা জানান, ভুক্তভোগী মেয়ে ও তার পরিবারের কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না থাকায় এবং কিশোরের বয়স বিবেচনায় তাকে তার বাবা-মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী ছয় মাস প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলবে। এ সময় বাবা-সহ ওই কিশোরকে প্রতি মাসে দুই-তিনবার হাজিরা দিতে হবে।

​ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী তানিসা স্কুল ড্রেস পরা ছিল। স্কুল চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা বাইরে কীভাবে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসী ও সুধী সমাজ। ভুক্তভোগী তানিসার বাবা, স্কয়ার গার্মেন্টসের শ্রমিক শাহীন মিয়া অভিযোগ করেন, স্কুল চলাকালীন বাইরে ঘোরাঘুরির অভিযোগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিচার করে তার মেয়েকে টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ, কাজ করে খাই। এখন এই স্কুলে পড়তে না পেরে অন্য স্কুলে ভর্তি করার ঝামেলায় পড়তে হলো।

​তবে কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার টিসি দেওয়ার কথা অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই দুই শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বাইরে অবস্থান করত। একাধিকবার মৌখিক সতর্ক করার পরও তারা শোনেনি। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়নি, বরং ভবিষ্যতে এমন করলে টিসি দেওয়া হবে এমন মর্মে অভিভাবকদের শুধু চিঠির মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির (এডহক কমিটি) সভাপতি ও বিএনপি নেতা মো. মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে অভিভাবকদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

কোমলমতি শিশুকে লাথি মারার ঘটনার পর উল্টো তাকেই স্কুল ছাড়ার মুখোমুখি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাহেদ কায়েস। তিনি বলেন, খবরটি পড়ে ভীষণ খারাপ লাগল। চতুর্থ শ্রেণির একটি শিশু লাথির শিকার হলো, অথচ শেষ পর্যন্ত তাকেই স্কুল ছাড়তে হলো! স্কুল চলাকালে শিশুটি বাইরে গেল কীভাবে, সেই দায়ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। যে শিশুটির পাশে শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের দাঁড়ানোর কথা, তার হাতেই তুলে দেওয়া হলো টিসি। এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া কঠিন। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে শিশুটিকে নিরাপদে স্কুলে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সমাজ সেবা বিভাগের প্রবেশন অফিসার নূর ফারজানা জানান, স্কুল ছাত্রীকে লাথি দিয়ে ভাইরাল কিশোরকে তার জিম্মায় বাবা মায়ের কাছে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ মাস ওই কিশোরকে কাউন্সিলের মাধ্যমে ভালো পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। প্রমেশন অফিসারের কাছে বাবা মাসহ প্রতি মাসে দু'তিন বার হাজিরা দেবেন। এ কিশোরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য সকল চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। উক্তত্যর শিকার মেয়ের ও তার পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন