সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভবনাথপুর এলাকায় দখল বাণিজ্য, ভুয়া দলিল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এক নারী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযুক্ত রানু মণ্ডল ও তার সহযোগী বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূলহোতা মহসিন কেরানি এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জায়গা-জমি জোরপূর্বক দখল, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানু মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এলাকায় দখল বাণিজ্যে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রানু মণ্ডলের স্বামী আনোয়ার হোসেন পেশায় দলিল লিখক হওয়ায় তাকে ব্যবহার করে ভুয়া ও জাল দলিলের মাধ্যমে নিরীহ মানুষের জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এলাকার এক দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরসহ স্থানীয় কয়েকজন নিরীহ মানুষের জমি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে দখল করে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সর্বশেষ জার্মান প্রবাসী উজ্জ্বল আহমেদের পিতার কাছ থেকে ৪.৭০ শতাংশ জমি ক্রয়ের পর, পাশের ১.৭৯ শতাংশ রাস্তার জায়গা জোরপূর্বক দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হয়। আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি সোনারগাঁ থানা পুলিশের মাধ্যমে উক্ত স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা (ইনজাংশন) জারি করা হয়। সোনারগাঁ থানার পুলিশ কর্মকর্তা নাঈমুর রহমান ঘটনাস্থলে নোটিশ প্রদান করে কাজ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে পুলিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের আঁতাতের মাধ্যমে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুনরায় স্থাপনা নির্মাণ করছে৷ কেউ বাধা দিতে গেলেই তাদের উপর আক্রমণ করছে এই রানু মণ্ডল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী৷
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রানু মণ্ডলের এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন ওই এলাকার এক বেপরোয়া ক্রিমিনাল খ্যাত মহসিন কেরানী। স্থানীয়দের দাবি, রানু মণ্ডলের প্রতিটি কার্যকলাপ মূলত মহসিন কেরানীর প্রত্যক্ষ ইশারাতেই সংঘটিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, রানু মণ্ডল এলাকায় একজন চিহ্নিত অপরাধী হিসেবে পরিচিত। এমন কোনো অপকর্ম নেই যা সে করে না। একটি রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সে দখল, মাদককারবার ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, রানু মণ্ডল ও তার সহযোগীদের লাগাতার হুমকি, ভয়ভীতি ও দখল চেষ্টার কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দ্রুত এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রানু মণ্ডল জানান, তার ও সহযোগীদের উপর যে অভিযোগ এনেছে তা সম্পুর্ণ উদ্দেশ্যপ্রনীত। তবে পুলিশের সামনে হুমকি গালিগালাজের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, আমার কাজে বাধা দেয়ার উত্তেজিত হয়ে এ কথা বলেছি৷
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন