সোনারগাঁয়ে ২৮ বছরের বন্দিজীবন থেকে মুক্তি পেল যুবক রাজু
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ললাটি গ্রামের ২৮ বছর বয়সী যুবক রাজু। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে চার দেয়ালের ভেতর একটি বিছানায় বন্দি করে রেখেছিল। দারিদ্র্যের কষাঘাতে পিষ্ট বাবা জাকির হোসেন ও মা হাফেজা বেগমের সামর্থ্য ছিল না ছেলের জন্য একটি হুইলচেয়ার কেনার।
৬ মে, বুধবার দিনটি রাজুর জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এল। কোনো দীর্ঘসূত্রতা বা লাল ফিতার দৌরাত্ম্য নয়, বরং মানবিকতা আর প্রশাসনিক ক্ষিপ্রতার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার সকালে স্থানীয় এক কর্মীর মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একটি হুইলচেয়ারের জন্য আবেদন জানায় রাজুর পরিবার। সাধারণত সরকারি সাহায্য পেতে যেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
আবেদনের ঠিক ০১ (এক) ঘণ্টার মাথায় রাজুর বাড়ির উঠোনে এসে থামে উপজেলা প্রশাসনের গাড়ি। স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত রাজুর জন্য একটি নতুন হুইলচেয়ার নিয়ে হাজির হন তার দুয়ারে।
ছেলের জন্য এত দ্রুত হুইলচেয়ার পেয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি বাবা জাকির হোসেন। বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, সকালে আবেদন জানালাম, আর এক ঘণ্টার মধ্যে ইউএনও স্যার নিজে এসে হুইলচেয়ার দিয়ে গেলেন, এটা আমাদের কাছে এখনো অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। এখন আমার ছেলে অন্তত চলাফেরা করতে পারবে, বাইরের পৃথিবীটা দেখতে পারবে।
এই মানবিক উদ্যোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত জানান, রাজুর দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা শোনা মাত্রই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল দ্রুততম সময়ে সেবা নিশ্চিত করা। আমরা চাই উপজেলা প্রশাসন সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠুক। মানবিক কোনো প্রয়োজনে যেন কাউকে অপেক্ষা করতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।
এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। যখন রাজুকে প্রথমবারের মতো হুইলচেয়ারে বসানো হয়, তখন তার চোখে-মুখে ছিল এক অপার্থিব আনন্দের দ্যুতি।
২৮ বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে রাজু এখন ডানা মেলবে নতুন এক জীবনে। প্রশাসনের এমন দ্রুত পদক্ষেপ ও মানবিকতা স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবার মান ও দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন