আ'লীগের লিটনের বিএনপিতে দৌড়ঝাঁপের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিটন প্রধান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, গত প্রায় দেড় যুগ ধরে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া এবং ভূমি দখলবাজদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়।
৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তিনি বিএনপিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, কিছু স্বার্থান্বেষী বিএনপি নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজ অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেন তিনি। তবে কাঙ্ক্ষিত জায়গা না পেয়ে ভিন্ন ধারার রাজনীতিতেও সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠে।
এছাড়া, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের সময় বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ‘গোপন সমঝোতা’র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে কখনো জামায়াত, আবার কখনো বিএনপির সমর্থক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন এমন অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান বিজয়ী হওয়ার পর জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে তার সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রচার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, নির্বাচনের পর বিজয়ী প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানাতে হাজার হাজার মানুষ এসেছেন। সেই ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কেউ ছবি তুলতেই পারে। কিন্তু সেটাকে পুঁজি করে নিজেকে বড় নেতা দাবি করা রাজনৈতিক প্রতারণার শামিল।
তারা আরও বলেন, দলের সঙ্গে যার কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই, তাকে জোর করে নেতা বানানোর চেষ্টা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। এ ধরনের ‘হাইব্রিড’ রাজনীতি থেকে দলকে সতর্ক থাকতে হবে।
এ বিষয়ে লিটন প্রধানের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন