সোনারগাঁয়ে শিয়ালের আতঙ্ক : নারী ও শিশুসহ ১৫ গ্রামবাসী আহত
সোনারগাঁ(নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে হঠাৎ করেই বন্য শিয়ালের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। উপজেলার তিনটি গ্রামে আকস্মিক শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৫ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার সোনারকান্দী, ভটেরকান্দী ও নয়াপাড়া এলাকায় এই আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন বিকেলে হঠাৎ করেই কয়েকটি হিংস্র শিয়াল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। তারা বিভিন্ন বাড়ি ও চলাচলের সড়কে অতর্কিত ঘুরে বেড়িয়ে যাকে সামনে পেয়েছে, তাকেই কামড়াতে শুরু করে। একের পর এক পথচারী ও বাড়ির আঙিনায় থাকা মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় হুলস্থুল ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সবাইকে জলাতঙ্ক বা র্যাবিস প্রতিরোধী টিকা প্রদান করা হয়।
আহতদের মধ্যে সোনারকান্দী গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, লিটন, শিশু আব্দুল্লাহ, ভটেরকান্দী জামে মসজিদের ইমাম, মিনহাজ, আব্দুল হাই, এক প্রবীণ নারী এবং নয়াপাড়া গ্রামের গোলজার হোসেনসহ মোট ১৫ জন রয়েছেন।
আহত দেলোয়ার হোসেন নিজের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, আমি বাড়ির সামনে শান্তojভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ একটি হিংস্র শিয়াল এসে আমার পায়ে কামড় দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্বজনরা আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
আরেক আহত লিটন বলেন, শিয়ালগুলো অত্যন্ত হিংস্র আচরণ করছিল। একজনকে কামড়ে দৌড়ে গিয়ে আবার অন্যজনের ওপর হামলা চালাচ্ছিল। তাদের উন্মত্ত আচরণে সবাই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমাইয়া ইয়াকুব জানান, শিয়ালের কামড়ে আহত হয়ে যারা হাসপাতালে এসেছিলেন, তাদের সবাইকে তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতস্থানের চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের সবাইকে র্যাবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি এই অঞ্চলে শিয়ালের উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুতই বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জননিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন