[islamsr] / results=[3] / label=[latest] / type=[headermagazine]
শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি: নিজের জমিতে ঘর তুলতে পারছেন না স্বামীহারা নুরজাহান

প্রকাশঃ
0 জন এই প্রতিবেদনটি পড়েছেন


​সোনারগাঁ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঝড়ে ভেঙে যাওয়া ঘরের জায়গায় নতুন ঘর তুলতে গিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির মুখে পড়েছেন নুরজাহান (৫০) নামের এক স্বামীহারা নারী। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাকে নিজের জমিতে ঘর তুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিরুপায় হয়ে শেষ পর্যন্ত সোমবার সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।

​ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের জাঁঙ্গাল গ্রামের শ্রীপতিরচর মৌজায়। মৃত আবুল হাসেমের মেয়ে নুরজাহান জীবনের দীর্ঘ সময় গার্মেন্টসে চাকরি করে অল্প অল্প করে সঞ্চয় এবং পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ জমির মালিক হন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই জমিতেই সন্তানদের নিয়ে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি ঝড়ে তার টিনশেড ঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। সন্তানদের নিয়ে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় হারিয়ে তিনি চরম বিপaken পড়েন। পরে ধারদেনা ও কষ্টের জমানো টাকা দিয়ে ঘরটি পুনরায় নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি।

​ভুক্তভোগী নুরজাহানের অভিযোগ, গত ৭ আগস্ট সকালে তিনি নিজের জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে স্থানীয় খন্দকার অলি, হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে কাজ বন্ধ করতে বলেন। এ সময় তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে জমিতে ঘর তুলতে দেওয়া হবে না এবং তাকে উচ্ছেদ করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় বিএনপি নেতা সাফির উদ্দিন মজনু ও তার ছোট ভাই মোহনের প্রভাবেই নুরজাহানকে ঘর তুলতে দেওয়া হচ্ছে না। স্বামীহারা এই নারী গার্মেন্টসে চাকরি করে অত্যন্ত কষ্টে দিনযাপন করেন। এলাকাবাসী এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত সমাধান দাবি করেছেন।

​চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তদের একজন খন্দকার অলি বলেন, ঘর তোলার সময় তাদের সঙ্গে নুর জাহানের কথাকাটাকাটি হয়েছে এটা সত্য। তবে তারা কোনো চাঁদা দাবি করেননি। জমির সীমানা নিয়ে কিছুটা বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি এলাকার মুরুব্বীদের নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

​এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, নুরজাহানের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​কান্নাজড়িত কণ্ঠে অসহায় নুরজাহান বলেন, আমি গার্মেন্টসে চাকরি করে কোনো রকমে সংসার চালাই। ঝড়ে ঘর ভেঙে যাওয়ার পর অনেক কষ্টে আবার ঘর তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। আমি এত টাকা কোথায় পাব? টাকাও দিতে পারি না, নিজের জমিতে ঘরও তুলতে পারি না। সন্তানদের নিয়ে তাহলে কোথায় যাব?

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন